শিরোনাম :
স্বাধীনতার ৫০ বছরে গড়ে ওঠেনি দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে একটি উন্নতমানের হাসপাতাল বেনাপোলে ভারতীয় গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ বেনাপোল বন্দরে আটকে আছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক, যানজটে নাকাল পাসপোর্ট যাত্রীরা জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে কারিগরি শিক্ষকদের বেনাপোল স্থলবন্দরে সন্ধ্যার পর পচনশীল পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ শার্শায় চলছে স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ : শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ যশোরের নাভারণ ক্লিনিক থেকে ২ দিনের শিশু চুরি প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর ২য় ডোজ গণটিকা দান কর্মসূচি শুরু

স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে কারিগরি শিক্ষকদের

রিপোর্টিং,বিশেষ প্রতিনিধি ঃ বাংলাদেশের স্থাপতি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বই বাংলাদেশ এখন অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ।

উন্নয়নের রোল মডেল। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে ১৯৭১ সালের ৬ ই ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে দক্ষিন এশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্ঠা হেনরি কিসিঞ্জারের সভাপতিত্বে ওয়াশিংটন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের সভায় আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট উরাল এলেক্সিস জনসন বাংলাদেশকে বাস্কেট কেস বলেছিলেন যার বাংলা অথ “তলাবিহীন ঝুড়ি“। হেনরি কিসিঞ্জার উরাল এলেক্সিস জনসনের কথাকে সর্মথন দিয়েছিলেন।

সেই “তলাবিহীন ঝুড়ির“ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আর এই কারনে পাকিস্তানের ক্যাপিটাল টিভির টকশোতে আলোচক জায়গাম খান বলেছিলেন ইমরান খান পাকিস্তানকে অনেক কিছু বানাতে চান।

তিনি বলেন, অন্য কোনও দেশের উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই,পাকিস্তানের উচিত হবে প্রথমে “বাংলাদেশ“ হবার চেষ্ঠা করা। আর তা হতে কমপক্ষে দশ বছর সময় লাগবে। ততদিনে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক দুর চলে যাবে।

জায়গাম খান কথাটা অমূলক বলেননি। বিশ্ব অর্থনীতি মন্দাতেও বাংলাদেশ অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। মানতে হবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় একটা ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। করোনা মহামারিতে বিশ্বের অনেক দেশ যখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে তখন বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

ঋণ নিয়ে চলা বাংলাদেশ এখন ঋণ দিতে শুরু করেছে। মহামারি করোনাভাইরাসে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাকে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। ইতি মধ্যে ৫ কোটি ডলার ছাড় দিয়ে প্রথম কোন দেশকে ঋণ দিলো বাংলাদেশ আর এর মাধ্যমে ঋণ দাতা দেশের তালিকায় নাম লেখালো বাংলাদেশ।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ভূমিকাকে স্বরণ রেখে দক্ষ জনশক্তির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন সরকার। সরকার উপলব্ধি করতে পেরেছেন দক্ষ জনশক্তি গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই আর তাই প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে অর্জিত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে র্দীঘ মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা রুপকল্প ২০৪১।

দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত, দূর্নীতি ও শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসাবে গ্রহন করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধি প্রসারন ও মানসম্মত শিক্ষা আইনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন পরিকল্পনা সহ নানাবিদ প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষামন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় অচল হয়ে পড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছেন ড. মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসিকে।

মহা পরিচালক ড. মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসি

সাবেক মহাপরিচালক মোঃ সানোয়ার হোসেন ও সহকারি পরিচালক জহুরুল ইসলামের অপসারনের দাবী সোচ্চার ছিল সারা বাংলাদেশের কারিগরির শিক্ষক সমাজ। শিক্ষক কমচারিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে মিছিল মিটিং সহ শিক্ষা সচিব শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর একাধিকবার আবেদনও করেছেন । অবশেষে মোঃ সনোয়ার হোসেনকে সরিয়ে ড. মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসিকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর মহাপরিচালক ড.মোঃ হেলাল উদ্দিনি এনডিসি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে গুরুত্বপূণ বিষয়ে বিচক্ষণতার সাথে সমস্যাকে চিহিুত করে সমাধানের লক্ষ্যে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নতুন পদ তৈরী করেন জনবল বাড়ানো সহ দক্ষ কমকর্তাদের দিয়ে সাজান অধিদপ্তরকে।

প্রতিবেদকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের আলাপে মহাপরিচালক বলেন, কাজের গতি যতটা থাকার কথা ততটা এখনও আনতে পারিনি, জনবল সংকট আছে সহসায় জনবল সংকট কেটে যাবে নতুন কিছু জনবল যুক্ত হচ্ছে।

অপর এক কথার পরিপেক্ষিতে মহাপরিচালক বলেন, অধিদপ্তরের কোন কমর্কতা যদি সেবা প্রার্থীদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন করেন বা হয়রানি করেন অথবা অনিয়ম করেন আর যদি সেটা প্রমানিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাপরিচালকের কথার সততা মিলে বর্তমান অধিদপ্তরের চিত্র দেখলেই । একটা সময় অধিদপ্তরের সামনে ষাট ফিটের বটতলার নিচে ও অধিদপ্তরের সামনে চায়ের দোকানে প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ – ষাট জন শিক্ষক কর্মচারীর জটলা থাকতো । কেউ এমপিও আবেদন করতে এসেছে কিন্তু সহকারী পরিচালক জহুরুল ইসলাম আবেদন জমা নিতে দেয়নি।

এমপিওর জন্য সকল কাগজ জমা দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরছে-অধ্যক্ষের নীচের পোষ্টের সহকারী পরিচালক জহুরুল ইসলাম কাগজ না দেখেই নিজের মনগড়া ভাবে তাদেরকে অকথ্য গালি দিয়ে বলেছেন আপনার প্রাপ্যতা নাই আর অধিদপ্তরে আসবেন না।

সহকারি পরিচালকের সাথে সুর মিলিয়ে একই ভাবে কথা বলতো সংযুক্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দে । কারো কোন কারন ছাড়াই ষ্টপ প্রেমেট,কারো কোড পরিবতন হয়েছে কি কারনে জানেন না এরুপ বহুমাত্রিক সমস্যা তবে একটা বিষয় সবার কমন ছিল সেটা হলো অধিদপ্তরে এসে সবাই নির্যাতিত হতো ।

বেসরকারি শিক্ষকদের অবস্থা ড.আশরাফ সিদ্দিকীর কবিতা “তালেব মাস্টার”এর মতো । আমি যেন সেই হতভাগ্য বাতিওয়ালা আলো দিয়ে বেড়ায় পথে পথে কিন্তু নিজের জীবনই অন্ধকারমালা। কবিতার এই ছন্দ গুলো যেন বাংলার বেসরকারি শিক্ষকসমাজের জীবনের করুন চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলেছে। অথচ শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষকদের অবদান সিংহভাগ । বেসরকারি শিক্ষক সমাজের দুর্দশা লাঘবের জন্য সরকার কর্তৃক চালু আছে মান্থলি পেমেন্ট অডার তথা এমপিও ব্যবস্থা।

কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তি হতে নিয়মের বেড়া জালে আটকিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। আর সেই কারনে এমপিও বঞ্চিত থেকে গেছে সিংহ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক। এবার সেই এমপিও নামক সোনার হরিণ ধরা দিবে। পাঁচ দশ বছর ধরে হতাশায় ভুক্ততে থাকা বেসরকারি শিক্ষকদের মনে বিশ্বাস জন্মেছে তারা এবার এমপিও ভুক্ত হবেন। আর র্দীঘ দিন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা সংসারের সবার মুখে হাসি ফুটাতে পারবেন।

বর্তমান মহাপরিচালক মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসির নেতৃত্বে পরিচালিত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে আরো পাঁচজন পরিচালককে দ্বায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে তারা সকলেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এমপিও সংশিষ্ট কাজের তদারকির দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোঃ আক্কাস আলী সেখ পরিচালক (পরিবীক্ষণ ওমূল্যায়ন/পিআইইউ)কে ।

মোঃ আক্কাস আলী সেখ ( পরিচালক) (পরিবীক্ষণ ওমূল্যায়ন/পিআইইউ)।

প্রতিবেদকের সরজমিনে দেখা মোঃ আক্কাস আলী সেখ একজন কারিগরি বান্ধব চৌকস কর্মকর্তা। নিজের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন। সারাক্ষন কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকেন রাত আটটা পর্যন্ত অফিস করতে দেখা যায় তাকে। র্দীঘ দিন অসংখ্য ফাইল জমে জমে ধুলো জমাট বেঁধে গেছে বেশী ভাগ ফাইলে।

পরিচালক আক্কাস আলী সেখ তার বিভাগের কর্মকতার্দের র্নিদেশ দিয়েছেন ধুলো পরিস্কার করে প্রতিটি ফাইলের প্রতিটি পাতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে যাতে অধিদপ্তরের ভুলে প্রাপ্যতা থাকার পরেও একজন শিক্ষক কর্মচারি যেন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হয়।

পরিচালক নিজেও মনযোগ দিয়ে প্রতিটি ফাইল দেখেন । এক প্রশ্নের জবাবে রিপোর্টিং কে পরিচালক বলেন, দেখেন এমপিও শাখাটা এমনিতেই স্পশকাতার এখানে শিক্ষক কর্মচারিদের জীবিকা জড়িত আমার অলসতা বা অবহেলায় একজন শিক্ষক, কর্মচারি যদি বঞ্চিত হয় তাহলে বঞ্চিত ব্যাক্তির র্দীঘ শ্বাস আমার লাগবে । আমার কাছে হয়তো বঞ্চিত ব্যাক্তি একটা সংখ্যা মাত্র কিন্তু ঐ ব্যাক্তি দিকে তাকিয়ে আছে তার পরিবার।

কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও সাক্ষাত করতে আসা কাউকেই তিনি নিরাশ করেন না, সবার সাথেই কথা বলেন। এমপিও ভুক্তি বাছাইয়ের পাশাপাশি অধিদপ্তর জনবল নিয়োগ কায্যক্রম চলমান।

সাত তলায় ভাইভা নিচ্ছেন পরিচালক আক্কাস আলী সেখ । দিনাজপুরের অধ্যক্ষ লিখন সহ কয়েকজন শিক্ষক তার সাথে দেখা করতে এলে তাদেরকে একটু অপেক্ষা করতে বলেন, ভাইভা শেষে সাক্ষাতে শিক্ষদের কাছে অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

পরিচালক আক্কাস আলী সেখ বলেন, অনেকে এমপিও প্রাপ্তি নিয়ে একটু বিভ্রান্তিতে আছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি। এমপিও প্রাপ্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ । আমাদের দুইটা কমিটি আছে,  বাছাই কমিটি ও অনুমোদন কমিটি । কাজেই এমপিওর জন্য কাউকে ঘুরতেও হবে না কারো সুপারিশের প্রয়োজন নাই । যাদের কাগজপত্র সঠিক আছে তারা এমনিতেই এমপিও ভুক্তি হয়ে যাবে দুদিন আগে আর পরে।

অধিদপ্তরের মূলগেটের সামনে রিক্সায় উঠতে যাচ্ছিলেন রাজশাহী বাগমারা উপজেলা শ্রীপুর রামনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আতাউর রহমান প্রামানিক। রিপোর্টিং প্রতিবেদক অধ্যক্ষ আতাউর রহমান প্রামানিককে দেখে সালাম দিতেই তিনি হেসে রিক্সা থেকে নেমে পড়েন। প্রতিবেদক অধ্যক্ষের কাছে জানতে চান আপনিতো অনেক দিন ধরে অধিদপ্তরে আসা যাওয়া করছেন আপনার কাজ এখনও হয়নি।

অধ্যক্ষ বলেন, আজ আসলে আমি অধিদপ্তরের কোন কাছে আসিনি অন্য কাজে ঢাকা এসেছিলাম। অনেকের মুখে শুনছিলাম অধিদপ্তর নাকি বদলে গেছে আগের মত কর্মকর্তাদের কাছে অপমানিত হতে হয় না সহকারি পরিচালক জহুরুল,বিশ্বজিৎ দখলবাজ সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত হয়েছে।

অধিদপ্তর এখন আমাদের প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে । তাই স্বচক্ষে দেখতে এসেছিলাম । কি দেখলেন জানতে চাওয়া হলে অধ্যক্ষ প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছে বলতে থাকেন, যা শুনেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশী খুশিতে আমার চোখে পানি এসে গেছে । এই অধিদপ্তরে আমার চেয়ে পদবীতে ছোট কর্মকর্তার কাছে অপমানিত হয়েছি বারবার, আমাদেরকে শিক্ষকদের মানুষ মনে করা হতোনা, শিয়াল কুকুরের মতো ব্যবহার করে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতো ভাবটা এমন ছিল যেন আমরা তাদের জমিদারি দখল করতে এসেছি।

আমাদের অফিসে আমরাই আসতে পারতাম না । সেই একই অধিদপ্তরের পরিচালক স্যার (আক্কাস আলী সেখ ) বিনয়ের সাথে সন্মান দিয়ে বললেন, এই অফিস আপনাদের, আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে আপনাদের সেবা করার জন্য ।

মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন (উপ-পরিচালক )

উপ-পরিচালক স্যার (মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন) কি অমায়িক ব্যবহার রুমে বসিয়ে চা খাওয়াতে চাইলেন কথা বললেন শুনলেন, বললেন আপনারা শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর সন্মানী মানুষ। আমাদের মহাপরিচালক স্যার পরিচালক স্যার শিক্ষক বান্ধব, উপ-পরিচালক স্যার আমাকে লিফট পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। মহাপরিচালক স্যারের সাথে দেখা হয়নি তবে আমার বিশ্বাস, তিনি অবশ্যই বিচক্ষণ তা না হলে অধিদপ্তরের অবস্থা পরিবর্তন হতো না। আজ আমার খুব আনন্দ লাগছে আমার চাকরি আর বেশীদিন নাই- শেষ সময়ে এসে শিক্ষক হিসাবে সন্মান টুকু পেলাম।

মোঃ আব্দুর রউফ মন্ডল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ। অধিদপ্তরে এসেছিলেন জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চতর টাইম স্কেল সহ বকেয়া বেতনের জন্য । দেখা করেন উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন এর সাথে।

উপ-পরিচালক আব্দুর রউফ মন্ডলের কাগজ দেখে বলেন, আপনারতো আরো আগে উচ্চতর টাইম স্কেল পাবার কথা । আপনার প্রাপ্ততা আছে আপনি পাবেন আমাদেরকে একটু সময় দিন । আব্দুর রউফ মন্ডল  “রিপোর্টিং“কে বলেন, এই প্রথম আমার মনে বিশ্বাস জন্মেছে আমি উচ্চতর টাইম স্কেল পাব দুমাস দেরি হলেও কোন সমস্য নাই উপ-পরিচালক স্যারের ব্যবহার আর বুঝিয়ে বলাতে আমি খুশি।

সপ্তম তলায় সংযুক্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সাক্ষর সংগ্রহ করছিলেন উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন সেখানেই প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয় । কিসের সাক্ষর জানতে চাওয়া হলে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন বলেন, কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন কোন কর্মকর্তা কতগুলো ফাইলের কাজ করছে সেই রির্পোট প্রতিদিন স্যারদের কাছে দিতে হয়।

১১/০২/২০২১ তারিখে মহাপরিচালক ড.মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসি অধিদপ্তরের নতুন সংযোজন উপপরিচালক (এমপিও) পদে যোগদান করেন মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন । মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন ২০১২ সালে চীপ ইনস্টাক্টর হতে উপাধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি পেয়ে ২০১২ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউট, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউট, ফেনি কম্পিউটার ইনস্টিটিটিউটে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউট এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হতে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) পদে যোগদান করেন।

মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। সদা হাস্য সাদা মনের মানুষ রিহান উদ্দিন খুব অল্পতেই মানুষকে বিশ্বাস করেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সকল সহকর্মির সাথে তার সুসর্ম্পক রয়েছে । রিহান উদ্দিন বলেন, সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে আমি নিষ্ঠা ও সততার সাথে তা পালন করতে অঙ্গীকার বদ্ধ।

বাংলাদেশ পলিটেকনিক অঙ্গনের সর্বপ্রথম কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটে বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিনন্দিত একটি মুরাল স্থাপন করেন মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন। রিহান উদ্দিন কথায় নয় অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানেই লাল সবুজের পতাকা । প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনার এই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের ভিশন ২০৪১ রুপকল্প বাস্তবায়নে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকার বদ্ধ ।

বর্তমান কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালক,উপপরিচালক,সহকারি পরিচালকগন শিক্ষা বান্ধব সরকারের ভিশন ২০৪১ রুপকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। র্দীঘ দিনের ধুলোয় চাপ পরা কম্পিউটার ডেমোনেষ্ট্রটরদের দশম কোড বেতনের দাবীর ফাইলের মতামত জানতে মন্ত্রালয়ে পাঠানো হয়েছে । গত ২৮/০৪/২০১৬ সালে বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কমচারী এমপিওভূক্তি সংক্রান্ত ২৯তম সভায় ৩২ জনকে সঠিক দেখিয়ে ৩৭২ জনের আবেদন ক্রটিপূণ দেখানো সেই কম্পিউটার ডেমোনেষ্ট্রটররা নতুন করে দশম কোডে বেতন পাবার আশার আলো দেখতে পাচ্ছে।

এ বিষয়ে মোঃ মোসলেম উদ্দিন,কম্পিউটার ডেমোনেষ্ট্রটর,মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রী কলেজ, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম বলেন, আমরা যারা স্নাতক/স্নাতকত্তোর ও ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ আছে তাদের দশম কোড দেওয়া উচিত।

মোঃ জাকারিয়া মিঞা,কম্পিউটার ডেমোনেষ্ট্রটর,শেরপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস,ম্যানেজমেন্ট কলেজ, শেরপুর,বগুড়া বলেন, সামান্য বেতন দিয়ে পরিবার নিয়ে দিনের পর দিন কি ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছি সেটা বলে বুঝাতে পারবো না । স্যারেরা আমাদের দুঃখ বুঝতে পেরেছেন।

তাপস কুমার সরকার,কম্পিউটার ডেমোনেষ্ট্রটর,ফুলপুর ডিগ্রী কলেজ,ময়মনসিংহ এসেছিলেন অধিদপ্তরে খোঁজ খবর নিতে, উপপরিচালকের সাথে কথা বলার পর তাপস কুমার সরকারের মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে ড.মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসি অধিদপ্তরে যোগদানের পর ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন কৃষিবিদ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভুঞা মহাসচিব বাংলাদেশ বেসরকারি কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট এসোসিয়েশন, ও অন্য নেত্রীবৃন্দ।

আগের মহাপরিচালক সানোয়ার হোসেন ও সহকারি পরিচালক জহুরুল ইসলামের অপসারনের দাবীতে সোচ্চার থাকা নেত্রীবৃন্দের কাছে বর্তমান অধিদপ্তরের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে।

কৃষিবিদ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভুঞা এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মহাপরিচালক, পরিচালক, উপপরিচালক কারিগরি বান্ধব তবে জহুরুল গ্রুপের সংযুক্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দে সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয়, তারা এখনও গতিশীল কাজের বাধা সৃষ্টি করে চলেছে। ঐ সিন্ডিকেট এখনও অনেক শিক্ষকদের সাথে শাষকের আচরন করছে। অনেকের ফাইল আগের মতোই মনগড়া ভুল ধরে উপস্থাপন করছে।

একাধিক শিক্ষক রিপোর্টিংকে বলেন, মহাপরিচালক স্যারের কাছে অনুরোধ তিনি যেন খুব দ্রুত দুস্কৃতকারি সিন্ডিকেটকে অপসারন করেন, তা না হলে এক বালতি দুধ নষ্ট করতে একফোঁটা লেবুর রস যথেষ্ট । বঙ্গবন্ধুর মতো তার কন্যা প্রধানমন্ত্রীও সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারিদের জনগনের সেবক হতে বলেছেন। আর ভুলে গেলে চলবেনা সরকারি কর্মকর্তাদের অশোভন আচরনের কারনে সরকারের ভাবমুতি ক্ষুন্ন হয়।

চ্যানেল বাংলা লাইভ টিভি

শিঘ্রই আসছে নতুন রুপে নিয়োগপত্র

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com