শিরোনাম :
যশোরের শার্শায় যৌতুকের টাকা দাবীকে কেন্দ্র করে জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন বেনাপোল দিয়ে ৩ বছর পর ২০ বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরী ভারত থেকে দেশে ফেরত। র‌্যাবের অভিযানে ৬৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজন আটক বিএনপি’র কোন নেতার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না আওয়ামী লীগের কমিটিতে – পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এমপি হোসনে আরা বিলুপ্ত প্রায় তাঁত শিল্প নবাগত ইউএনওকে ইসলামপুরে বরণ কালকিনিতে তৌহিদী জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, তদন্ত ওসিসহ আহত-৪ আ’লীগের দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়পুরহাটে দুই ইউপিতে পরির্বতন মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে পলাশবাড়ীতে মানববন্ধন মধুপুরে ব্রীজ থেকে এক ভ্যান চালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

শিশুধর্ষণের ঘটনা রাতেই ধামাচাপা দিতে মিমাংসার ব্যর্থ

রিপোর্টিং,জয়পুরহাট,প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের কালাইয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে তার বাড়ীতে বাবা-মা’র অনুপস্থিতিতে সিএনজি চালক জহুরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবক শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মাস্তর চান্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত যুবক জহুরুল ইসলাম একই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

এদিকে ধর্ষণের বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারকে স্থানীয় মাতব্বররা ভাবে বিষয়টি কাউকে জানানোর চাঁপ করে এবং স্থানীয় ভাবে বসে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়ার নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওইদিন রাতেই একটি শালিশের আয়োজন করেন গ্রাম্য মাতব্বররা। এমনি আয়োজিত শালিশে ভুক্তভোগী ওই শিশুর পরিবারের লোকজন উপস্থিত হলেও অনুপস্থিত ছিল অভিযুক্ত জহুরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা।

এলাকার মাতব্বরদের আয়োজিত শালিশ করতে ব্যর্থ হলে অবশেষে রাত আনুমানিক পৌনে ১২ টার দিকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ১১ বছরের শিশুটিকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান পরিবারের লোকজন। ওই রাতেই উপজেলা কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়াই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে ধর্ষণের শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কালাই থানায় উপস্থিত হয়ে সিএনজি চালক ধর্ষক জহুরুল ইসলাম কে আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

প্রতিবেশী ও থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে,ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা একজন দরিদ্র দিনমজুর স্থানীয় টিনের ঘরের ছাউনি মিস্ত্রি। গত শুক্রবার সকাল থেকে নিজ গ্রামেই অন্যের বাড়ীতে টিনের ঘর ছাউনির কাজ করতে গিয়েছিলেন এবং শিশুটির মা তাকে বাড়ীতে একাই রেখে স্বামীর কাছে যায়। এমন সুযোগ বুঝে সিএনজি চালক জহুরুল ইসলাম তাদের বাড়ীতে প্রবেশ করে ওই শিশুর মুখে কাপড় বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাবা ও মা বাড়ীতে এসে দেখতে পায় তাদের মেয়ে ঘরের ভিতর মেঝেতে আহত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে ওই শিশুর কাছ থেকে তার বাবা মা ঘটনার বিস্তারিত শোনে এবং তাদের প্রতিবেশীসহ গ্রামের লোকজনদের জানান।

ওই গ্রামের মাতব্বর ছফির উদ্দিন,হেলাল উদ্দিন, ছুমির ফকির, আলতাব হোসেন সরদার, আমিরুল খান ও ছাত্তার খান মিলে ওই শিশুর বাবা ও মা কে ওই ঘটনাটি জানাজানি করতে নিষেধ করেন এবং তারা সবাই মিলে রাতে শালিশ করে এ ঘটনা মিমাংসা করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন। মাতব্বরদের কথায় নির্ভরশীল হয়ে শিশুর বাবা স্থানীয় একটি ফার্মেসী থেকে কিছু ঔষুধ এনে ওই শিশুকে খাইয়ে দেন।

দিন শেষে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শালিশে বসেন গ্রামের মাতবররা। গোপনে মাতব্বরদের ডাকা শালিশে শিশুটির পরিবারের লোকজনরা সময় মতো উপস্থিত হলেও উক্ত শালিশে অনুপস্থিত ছিল শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত সিএনজি চালক জহুরুল ইসলাম। এবং উক্ত শালিশে ওই ঘটনার পর থেকে জহুরুল ইসলাম পলাতক রয়েছে।

এদিকে গ্রাম্য মাতব্বরদের আয়োজিত শালিশে উভয়পক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় ওই রাতেই পরিবারের লোকজন গুরুত্বর আহত শিশুকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।পরে চিকিৎসকরা ওই শিশুকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এবিষয়ে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মব্যত চিকিৎসক ডাঃ নুর আলম বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই শিশুকে রাতেই জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ধর্ষিত শিশুর বাবা মামলার বাদী বলেন, কাজ শেষে দুপুরে বাড়ীতে এসে দেখি আমার মেয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। মেয়ের কাছ থেকে শুনে আমি গ্রামের লোকজনদের এ ঘটনা জানাই। মাতবররাসহ গ্রামের অনেকেই বলে, এ ঘটনা বেশী জানাজানি করা যাবে না। রাতে বসে দুই পক্ষকে নিয়ে মিমাংসা করে দেওয়া হবে। থানা ও হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু শালিশ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাতেই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যাই এবং পরে জহুরুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।

নাম প্রকাশে আনইচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রতিবেশীরা জানান,বিষয়ে গত শুক্রবার রাতে গ্রাম্য মাতব্বররা এ ঘটনার বিষয়টি মিমাংশার জন্য গ্রামের আরো বেশকিছু লোকজন মিলে শালিশে বসেছিল। কিন্তু অভিযুক্ত জহুরুল না আশায় শালিশটি হয়নি।

পরে আমরা ওই শিশুর বাবা-মা ও গ্রামের অন্য লোকজন মিলে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে শিশুকে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার পরই শিশুর বাবা ও মা থানায় যেতো কিন্তু গ্রাম্য মাতব্বররা নিষেধের কারণে তখন যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে আইনি আশ্রয় নিতে হলো। এলাকা বাসীরা আরো জানান এমন অসংখ্য বিষয়ে আইনি আশ্রয় নিতে বাধা দিয়ে গ্রাম্য শালিশ বসিয়ে মিমাংশা করে থাকে। এই মাতব্বররা যে কোনো কাজে নাক গলায়।

ওই গ্রামের মাতবর হেলাল উদ্দিন বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি মিমাংসার জন্য রাতে আমরা সবাই মিলে শালিশে বসিয়ে ছিলাম। কিন্তু অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম শালিশে উপস্থিত না হওয়াই শালিশ হয়নি। পরে আমরা সবাই মিলে ওই শিশুর পরিবারের লোকজন কে থানার আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি। তাই ওরা রাতেই থানায় গিয়ে মামলা করেছে। জহুরুল এই ঘটনার আগেও এই গ্রামে আরো ৪-৫ বার একই কাজ করেছে। আমরাও এ লম্পট জহুরুলের কঠোর শাস্তির দাবি করছি এবং তার কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।

কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে জহুরুল নামে একজনকে আসামী করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে। মামলার পর থেকে জহুরুল পলাতক রয়েছে তাকে দ্রুত আটকের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এমন একটি ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত শুক্রবার রাতে ওই গ্রামের মাতব্বররা যে মিমাংসার জন্য শালিশে বসেছিলেন এ বিষয়ে ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এমন ঘটনা শুনেছি। আর যদি তারা শালিশে বসে থাকে তাহলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওসি জানান।

চ্যানেল বাংলা লাইভ টিভি

নতুন রুপে নিয়োগপত্র

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com