শিরোনাম :
স্বাধীনতার ৫০ বছরে গড়ে ওঠেনি দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে একটি উন্নতমানের হাসপাতাল বেনাপোলে ভারতীয় গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ বেনাপোল বন্দরে আটকে আছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক, যানজটে নাকাল পাসপোর্ট যাত্রীরা জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে কারিগরি শিক্ষকদের বেনাপোল স্থলবন্দরে সন্ধ্যার পর পচনশীল পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ শার্শায় চলছে স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ : শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ যশোরের নাভারণ ক্লিনিক থেকে ২ দিনের শিশু চুরি প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর ২য় ডোজ গণটিকা দান কর্মসূচি শুরু

বানের পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

রির্পোটিং,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা অতি বৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দেখা দিয়েছে বন্যা। এই বন্যার ফলে মানুষ যেমন পানিবন্দি হচ্ছে সেই সঙ্গে ডুবে যাচ্ছে কৃষকের রোপন করা ধানের ফসলি জমি ও বীজ তলা। অসময়ে হঠাৎ বন্যায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে মনে করছেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান লাগানো হয়েছে। করা হয়েছে ব্যাপক বীজতলাও। চলতি আগস্ট মাসের শুরুতেই মাঝে মধ্যেই বৃষ্টিপাতের কারণে বিল ও নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, সেসব অঞ্চল পানিতে টইটুম্বুর ছিল। অপর দিকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধলেশ্বরী নদীর পানি বাড়ায় উপজেলার সলিমাবাদ, ভারড়া, দপ্তিয়র, মামুদনগর ও মোকনা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের স্বপ্ন সদ্য রোপণকৃত রোপা-আমন ধান নিম্ঞ্চলে তলিয়ে গেছে। আবার শুরু হয়েছে উত্তরাঞ্চলের নদের অব্যহত পানি বৃদ্ধি ফলে কৃষক আরও হতাশ।

উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের ঘিওরকোল এলাকার ধান চাষী রফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ৯২ শতাংশ জমিতে ধান নিজে রোপন করেছেন। তাঁর সেলো মেশিন দিয়ে আরও প্রায় তিন একর জমিতে তিনি পানি সেচ দেন। পুরো প্রজেক্ট জুরে পানি আর পানি। মাঝে মাঝে কিছু কিছু জমির ধান ডুবে পাতা হালকা দেখা যায়। নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে ধানের অপূরণীয় ক্ষতি হবেন বলেও তিনি জানান।

উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের চর ভারড়া গ্রামের কৃষক বাছের উদ্দিন সরকারের ছেলে ইসহাক মিয়া এবার ছয় বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে রোপা-আমন ধানের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, এবার বন্যা হবে না মনে করে আমি রোপা-আমন ধান লাগিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বৃষ্টিপাতে আর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার পুরো ছয় বিঘা জমির ধান প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তলিয়ে যাওয়ার জমির লাগানো ধান পঁচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেবল পানিই বাড়ছে না, আমাদের মত শত শত কৃষকের হতাশাও বেড়ে চলছে চলতি বন্যায়।

বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা ধানের বিষয়ে উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা কৃষিবিদ ছরোয়ার হোসাইন, রুবেল ও ফয়সাল মাহমুদ পরামর্শ স্বরুপ জানান, পানিতে যদি ১৫ দিন বা তার কম সময় ধান তলিয়ে থাকে তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ছত্রাক নাশক স্প্রে প্রয়োগ করলে ধানে কোন ক্ষতি হবে না। আমাদের সেবা মাঠ পর্যায়ে প্রতি কৃষক পেয়ে আসছে এবং পাবেও। কৃষিতে সফলতা আনতে উপজেলা কৃষি অফিসার এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সর্বদাই আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কৃষকের পাশে আছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মতিন বিশ্বাস জানান, অসময়ে চলতি বন্যায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ৪৯, বিআর ১১, ৮৭ জাতসহ বিভিন্ন জাতে উচ্চ ফলনশীল জাতে ধানের চারা নিমজ্জিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বন্যার পর ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা তৈরি করা হবে। সেই হিসেবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যদি বন্যার পানি দিন দিন বাড়তে থাকে তাহলে কৃষিতে ব্যপক ক্ষতি হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যদি নদীর পানি অব্যহত ভাবে বাড়তে থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে তালিকা করা হবে। সরকারি কৃষি প্রনোদনার সহায়তা এলে বন্যায় কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে উপজেলা কৃষি অফিস তাদের সর্বদাই পাশে থাকবে।

চ্যানেল বাংলা লাইভ টিভি

শিঘ্রই আসছে নতুন রুপে নিয়োগপত্র

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com