রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন :
** জরুরী ভিত্তিতে জমি বিক্রয় হইবে । ** জরুরী ভিত্তিতে জমি বিক্রয় হইবে । ** জরুরী ভিত্তিতে জমি বিক্রয় হইবে । ** জাতীয় দৈনিক বর্তমান খবরে সংবাদ কর্মী/প্রতিনিধি আবশ্যক । যোগাযোগ : 01714925606 , ইমেইল : bartomankhobor@gmail.com ওয়েব : www.bartomankhobor.com.
সংবাদ শিরোনাম :
স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মধ্যরাতে অসহায় ভাসমান মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ আওয়ামী লীগের পদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীর এর সাথে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছবি ভাইরাল, লকডাউনে ব্যাংকিং কার্যক্রম সাড়ে তিন ঘণ্টা চলবে অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের আলোচিত স্ত্রী তামিমার ছবি দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তিন ফরম্যাটেই শততম ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে সমাজকে উজ্জীবিত করতে পারেন,তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পর্ন ছবি তৈরিতে গহনা বশিষ্ঠ নতুন অভিনেতা,অভিনেত্রীদের টার্গেট করতো কাল থেকে শুরু কঠোর লকডাউন’, খুলছে না গার্মেন্টস-কারখানা ঈদ উপহার পেয়ে খুশিতে কাঁদলেন চঞ্চল চৌধুরী হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগী ভর্তির সংখ্যা গত ২৪ ঘন্টায় ৪০২

প্রণোদনা! কৃষিঋণ বিতরণ কোন পথে – সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

৫ মার্চ একটি বাংলা দৈনিকে কৃষকের সাড়ে চার লাখ ব্যাংক হিসাব কমেছে মর্মে খবর প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র দাবি করেছে, ‘সংশ্নিষ্ট বিভাগের’ তথ্য অনুযায়ী কৃষকের ব্যাংক হিসাব বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই বিভাগের দুই রকম পরিসংখ্যান কেন হলো তা বোধগম্য নয়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য একটি সূত্রের মতে, দুটি সরকারি ব্যাংকে কৃষকের হিসাব সঠিকভাবে হালনাগাদ না করায় সংখ্যার গরমিল হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি এখনও দারুণভাবে বিভ্রান্তিকর। কৃষিঋণ ব্রিটিশ আমল থেকেই দেওয়া হতো। তখন গুটিকয়েক ব্যাংক বড় শহরেই ছিল। এ জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার প্রথা চালু হয়। এ ঋণের নাম ছিল তাকাভী ঋণ। মূলত কৃষিঋণ-সংক্রান্ত দুটি আইন যথাক্রমে ১৮৮৩ ও ১৮৮৪ সালে প্রণীত হয়।

একটির নাম ছিল ল্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট লোনস অ্যাক্ট (১৮৮৩)। অন্যটির নাম ছিল এগ্রিকালচারিস্ট লোনস অ্যাক্ট (১৮৮৪)। সংক্ষেপে এদের বলা হতো লিলা ও আলা। লিলার আওতায় কুয়া, পুকুরের সংস্কারসহ সেচের পানির বিতরণ ব্যবস্থা, পানি নিস্কাশন ও বন্যার পানি রোধ করার লক্ষ্যে বাঁধ নির্মাণসহ নদীভাঙন বন্ধ করার জন্য ঋণ দেওয়া হতো। আলার আওতায় উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলো ছাড়াও দুস্থ চাষিদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য ঋণ দেওয়া হতো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলা ও লিলার আওতায় যে ঋণ দেওয়া হতো, তার প্রভাব সামান্যই ছিল। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময়ে পাঞ্জাব, তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) ও ভারতে কৃষিঋণ নিয়ে সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে বেশিরভাগ কৃষিঋণ প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে বিতরণ করা হলেও অন্যান্য সূত্রের ঋণের উৎস নিতান্ত কম ছিল।

এ সমস্যা নিরসনে ১৯৫২ সালে কৃষিতে অর্থায়নের জন্য এক বিধিবদ্ধ সংস্থা সৃষ্টি করা হয়। এর নাম ছিল এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন বা সংক্ষেপে এডিএফসি। পরে ১৯৫৬ সালে কৃষি ব্যাংক কেন্দ্রীয় সরকার স্থাপন করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে অবস্থিত কৃষি ব্যাংকের গুটিকয়েক শাখা নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্থাপিত হয়।

১৯৭৭ সালে কৃষিঋণের বিতরণ অধিকতর ব্যাপক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ কৃষিঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কৃষি ব্যাংক ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অন্য সব ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে বেসরকারি খাতের কিছু ব্যাংকও কৃষিঋণ বিতরণে অংশগ্রহণ করে। ১৯৭৭-পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষিঋণ হিসাব ও বিতরণের পরিমাণ সুসংহত করার লক্ষ্যে কৃষিঋণ পাস বই বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়।

কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই এ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। কৃষিঋণ গ্রহণকারীদের সঠিক সংখ্যা জানার একমাত্র উপায় কয়টি ঋণ হিসাব প্রতি ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট শাখায় খোলা ও কত টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষিঋণের প্রকার নানাবিধ। সবচেয়ে বেশি হলো শস্যঋণ। শস্যঋণ বাদেও কৃষি-সংক্রান্ত অন্যান্য ঋণও দেওয়া হয়। যেমন সেচযন্ত্রের ঋণ বা কৃষি যন্ত্রপাতির ঋণ। এরপর ২০১০ সালে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর উদ্যোগে সার বিতরণ কার্ড কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্র প্রসারের জন্য ১০ টাকায় যে কোনো কৃষক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে মর্মে সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়ে দেয়।

প্রকৃত কৃষক যাতে এ সুবিধার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য কৃষকদের সার বিতরণ কার্ড যাচাই করে হিসাব খোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়। আলোচ্য সংবাদ সূত্রমতে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে কৃষকের নামে হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি এক লাখ ছিয়াশি হাজার ছয়শ পাঁচ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এসে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে সাতানব্বই লাখ আটাশ হাজার পাঁচশ আঠারো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী হিসাবের সংখ্যা কমলেও জমার পরিমাণ বেড়েছে পঞ্চাশ লাখের বেশি।

এখানে যে বিষয়টি স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন রয়েছে তা হলো, কৃষকের যে হিসাবের কথা প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে তা হলো সঞ্চয়ী হিসাব। কৃষিঋণের হিসাব এটা নয়। কারণ ঋণ হিসাব পৃথকভাবে খোলার প্রথা রয়েছে। ঋণ পরিশোধের টাকাও এ হিসাবে জমা করতে হয়। মাঠ পর্যায়ে এ বিষয়টি বাস্তবে কীভাবে কাজ করছে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে কৃষি বিভাগ রয়েছে, তারা দেখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী কৃষিঋণ বিতরণ বিশ বছর আগের তুলনায় এখন অনেক গুণ বেড়েছে। এর আদায়ের বিষয়টিও দেখতে হবে। অন্যথায় কৃষিঋণ বিতরণ টেকসই হবে না। কৃষিঋণ মানেই শস্য উৎপাদন ঋণ নয়। যদিও কৃষিঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শস্য উৎপাদন খাতে দেওয়া হয়। শস্য উৎপাদনে সহায়ক অন্যান্য উপখাতেও কৃষিঋণ দেওয়া হয়। যেমন সেচযন্ত্র ক্রয়ের জন্য ঋণ। অথবা কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ঋণ। সরকারি নীতিনির্ধারকরা সব সময়ই কৃষিঋণ যথেষ্ট পরিমাণে দেওয়ার কথা বলেছেন, এখনও বলেন। অন্যদিকে কৃষিজীবীদের একটি বিরাট অংশ হলো বর্গাচাষি। শস্যঋণের জন্য জমি বন্ধক দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ঋণ মঞ্জুরির জন্য চাষযোগ্য জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হয়। এ কারণে বর্গাচাষিদের শস্যঋণ না পাওয়ারই কথা। তবে এ কথাও সত্যি, নগণ্য সংখ্যক হলেও বর্গাচাষিরা ঋণ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণ ম্যানুয়ালে বর্গাচাষিদের ঋণ প্রদানের পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য ব্যাংক এ ক্ষেত্রে কী করছে তা সবারই অজানা। এ বিষয়টি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে উৎপাদিত শস্য বণ্টনের বিষয়টি। বর্গাচাষিদের অন্য নাম ভাগচাষি। অর্থাৎ, উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট ভাগ তাদের প্রাপ্য। কৃষি উপকরণ যেমন- সার, বীজ ও ক্ষেত্রমতো সেচের পানি যদি জমির মালিক বহন করেন, তাহলে মোট উৎপাদিত শস্যের তিন ভাগের এক ভাগ বর্গাদারের পাওয়ার কথা ১৯৮৪ সালের সংশ্নিষ্ট আইনে স্বীকৃত। অন্যদিকে উপকরণ ব্যয় যদি বর্গাদার বহন করেন, তাহলে তিনি উৎপাদিত শস্যের তিন ভাগের দুই ভাগ আইনত পাবেন। কিন্তু বাস্তবে এ চিত্র ভিন্নতর হতেও পারে। এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত খুব কমই পাওয়া যায়।

কৃষকের হিসাবের সংখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব ব্যাংক কৃষিঋণ প্রদান করে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতিবেদনের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। এ সংখ্যার মূল উৎস কী? নিশ্চয়ই ঋণ বিতরণের হিসাবের সংখ্যাই হবে কৃষকের হিসাব। তাহলে ২০১০ সাল থেকে যে কৃষকের হিসাব সার বিতরণ কার্ডের ভিত্তিতে খোলা হয়েছে, তার সংখ্যা কত? বিষয়টি স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে যেসব হিসাবের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, তার ভিত্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বা ‘ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশেন’। অন্যদিকে সূত্রমতে, ২০১৯ সালে কৃষকের হিসাবগুলোতে জমার পরিমাণ ছিল তিনশ একান্ন কোটি ছিয়াত্তর লাখ টাকা। ২০২০ সালে জমার পরিমাণ বেড়ে চারশ ছয় কোটি ছিয়াশি লাখ টাকা। এ পরিসংখ্যান যদি সঠিক হয় তাহলে অনুমান করা যায়, কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারা আর ঋণে জর্জরিত নয়। তবে প্রশ্ন করা যায়, কোন শ্রেণির কৃষক এ ধরনের হিসাবের মালিক। তাদের সংখ্যা কত?

অনুগ্রহ করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল বাংলা লাইভ টেলিভিশন



Our Visitor

0 0 1 0 3 0
Total Users : 1030
Total views : 3596



spicebaker মানেই স্বাস্থ্য সম্মত খাবার

সাশ্রয়ী মূল্যে ঘরোয়া পরিবেশে স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। হোম ডেলিভারির সু-ব্যবস্থাও আছে।

© All rights reserved © 2020  reportingbd.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com