শিরোনাম :
স্বাধীনতার ৫০ বছরে গড়ে ওঠেনি দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে একটি উন্নতমানের হাসপাতাল বেনাপোলে ভারতীয় গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ বেনাপোল বন্দরে আটকে আছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক, যানজটে নাকাল পাসপোর্ট যাত্রীরা জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহবান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে কারিগরি শিক্ষকদের বেনাপোল স্থলবন্দরে সন্ধ্যার পর পচনশীল পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ শার্শায় চলছে স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ : শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ যশোরের নাভারণ ক্লিনিক থেকে ২ দিনের শিশু চুরি প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর ২য় ডোজ গণটিকা দান কর্মসূচি শুরু

পরীমনি- রাজ সিন্ডিকেটে প্রভাবশালীদের প্রভাবে প্রভাবিত ছিলেন

?????????????????????????????

রির্পোটিং প্রতিবেদন : প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও নায়িকা পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাতেই জানা যায়, তাদের সিন্ডিকেটে রয়েছেন অন্তত দুই ডজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এসব ব্যক্তির বিষয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে র‌্যাব। রাজ-পরীমনি সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য রাজ ও পরীমনি দিয়েছেন সেগুলোর সবই ঠিক, এমনটি নাও হতে পারে। এ কারণে তাদের দেওয়া সব তথ্য তদন্ত করেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় র‌্যাব।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, পরীমনির বাসায় ছিল একটি মিনিবার। সেখানে নিয়মিতই পার্টি হতো। তাতে মদসহ সব ধরনের মাদকের সাপ্লাই দিতেন নজরুল ইসলাম রাজসহ কয়েকজন। এসব পার্টিতে আসতেন উচ্চবিত্তদের বখে যাওয়া তরুণ-তরুণীরা। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার রাজ-পরীমনি সিন্ডিকেটের শিকারে পরিণত হতেন। জিম্মি করে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা। মূলত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য পার্টিতে আনা হতো মডেলসহ সুন্দরী তরুণীদের। গোপনে ধারণ করে রাখা হতো বিশেষ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও। পরে সেগুলোই ব্যবহার করা হয় ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে।

রাজের নেতৃত্বে একটা টিম ছিল, যাদের কাজই হলো উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে নানা রকম অপকর্ম করানো। গ্রেপ্তার রাজ ও মিশু হাসানের মোবাইল এবং ল্যাপটপে ঘেঁটে অনেক প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরই বিশেষ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মিলেছে। গোপনে ধারণ করা এসব ছবি দিয়েই চলত তাদের ব্ল্যাকমেইল। মাদকের দুই মামলায় পরীমনিসহ চারজনকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মিশু হাসান ও জিসানকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পরই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরীমনি ও রাজের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি ও প্রযোজক রাজসহ চারজনকে।

উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানীর অভিজাত এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের তথ্য দেয়। এর ভিত্তিতেই বনানীর নিজ বাসা থেকে গত বুধবার আটক করা হয় শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনিকে। ওই বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. নজরুল ইসলাম ওরফে রাজ, পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু ও রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীকেও। পরীমনির বাসা থেকে মিনি বার পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৩৩ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশি মদ, দেড় শতাধিক বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা ও সিসাসামগ্রী, ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি, আইস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।’

র‌্যাব মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত পরীমনি জানিয়েছেন, পিরোজপুরের কলেজে (এইচএসসি) পড়ার সময়েই তিনি চিত্রজগতে প্রবেশ করেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩০টি সিনেমা এবং ৫ থেকে ৭টি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসে চিত্রজগতে একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরিতে নজরুল ইসলাম রাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে ২০১৬ সাল থেকে পরীমনি অ্যালকোহলে (মদ) আসক্ত হয়ে পড়েন। তার ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করে থাকেন। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বাসায় একটি মিনি বার স্থাপন করেছেন। আর মিনি বার থাকায় তার ফ্ল্যাটে ঘরোয়া পার্টি অয়োজন পরিপূর্ণতা পেত। রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সরবরাহ করতেন এবং পার্টিতে অংশ নিতেন।’

রাজকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮৯ সালে খুলনার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দাখিল পাস করেন তিনি। পরে ঢাকায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন বলে দাবি তার। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যবসাবাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি শোবিজ জগতেও তার অনুপ্রবেশ ঘটে। বিভিন্ন সিনেমা-নাটকে নানা চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নামে-বেনামে প্রযোজনায় যুক্ত হন। রাজ মাল্টি মিডিয়া নামেও তার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক জগৎ ও চিত্রজগতের দুই ক্ষেত্রে সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

র‌্যাব জানায়, নজরুল ইসলাম রাজ ইতিপূর্বে গ্রেপ্তারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০/১২ জনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। এই সিন্ডিকেটটি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকা-ের ব্যবস্থা করে থাকে। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত অভিজাত পরিবারের সদস্য। প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করত। এ ছাড়া সিন্ডিকেটটি বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করত। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টির আয়োজন করা হতো। পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তিদের চাহিদা/পছন্দের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন জানান, রাজ তার ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’ কার্যালয়টি অনৈতিক কাজে ব্যবহার করত। তার মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস থেকে বিপুল পরিমাণ পর্নোগ্রাফি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, নজরুল ইসলাম রাজ জানায় এ জাতীয় অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় আমদানি, ড্রেজার, বালু ভরাট ও ঠিকাদারি এবং শোবিজ জগতে বিনিয়োগ করতেন। তার সঙ্গে ব্যবসায় বেশ কয়েকজন অবৈধ অর্থের জোগানদাতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ব্যবসায়িক কাঠামোতে অস্বচ্ছতা রয়েছে। এগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিকৃত যৌনাচারের সরঞ্জাম দেখে র‌্যাব ধারণা করছে, রাজ মাল্টিমিডিয়ার ওই অফিসে পর্নোগ্রাফি তৈরি করা হতো। এর মাধ্যমেও অবৈধভাবে টাকা আয় করতেন রাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল শাহরিয়ার দীর্ঘদিন কানাডায় ছিলেন। তিনি সেখানকার গ্রিনকার্ডধারী। রাজের অবৈধ অর্থ সোহেলের মাধ্যমে কানাডায় পাচার হয়েছে। সোহেলের সঙ্গে রাজ-পরীমনিসহ বিভিন্ন নায়ক-নায়িকার ঘনিষ্ঠতার ছবিও পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বিকালে অভিযানের সময় পরীমনির বাসায় প্রবেশ করা নিয়েই অনেক জটিলতা তৈরি হয়। তিনি ভেতর থেকে বাসার দরজা খুলছিলেন না। প্রায় আধঘণ্টা পর দরজা খুলে দিলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি দল তার বাসায় প্রবেশ করে। পরীমনি প্রথমে র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের কাছে উচ্চপর্যায়ে তার অনেক যোগাযোগের কথা বলেন। পরে তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, আইস ও এলএসডি মাদক উদ্ধারের পর চুপসে যান তিনি। এরপর আভিযানিক দলের সদস্যদের সহযোগিতা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, আটকের পর পরীমনিকে উত্তরা র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছেন। তার সঙ্গে উচ্চবিত্ত ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পদস্থ পর্যায়ের কারো কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কর্মকর্তারা তার উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন, বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং কিছুদিন আগে বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। কোনো কোনো প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ ছিলেন পরীমনি। তবে বেশিরভাগ সময়ই কান্নাকাটি করেছেন।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কেএম আজাদ গনমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেকের সম্পর্কেই তথ্য দিয়েছেন। তবে তারা ইল ইনটেনশন (খারাপ উদ্দেশ্যে) তথ্য দিয়েছেন কিনা সেগুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি।

চ্যানেল বাংলা লাইভ টিভি

শিঘ্রই আসছে নতুন রুপে নিয়োগপত্র

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com