মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞাপন :
** জরুরী ভিত্তিতে জমি বিক্রয় হইবে । ** জরুরী ভিত্তিতে জমি বিক্রয় হইবে । ** জরুরী ভিত্তিতে জমি বিক্রয় হইবে । ** জাতীয় দৈনিক বর্তমান খবরে সংবাদ কর্মী/প্রতিনিধি আবশ্যক । যোগাযোগ : 01714925606 , ইমেইল : bartomankhobor@gmail.com ওয়েব : www.bartomankhobor.com.

এই প্রজন্ম অতিমাত্রায় অলস,রুনা লায়লা

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাননি। ঘরেই চলে তার গান, চর্চা, নতুন ভাবনা সবকিছু। তবে গত মঙ্গলবার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে গান করেছেন তিনি। অনেক দিন পর স্টেজে ফিরে খুব আনন্দিত তিনি। বললেন, ‘খুবই ভালো লেগেছে। অনেক গোছানো আয়োজন ছিল। আমার পরিবেশনার সময় সুন্দর একটা নাচের কোরিওগ্রাফি করেছে। আগের রাতে মহড়া করেছিলাম। নাচের শিল্পীরা এত সুন্দর পারফর্ম করেছে, আমি মুগ্ধ হয়েছি। মঞ্চটাও চমৎকার বানানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত শিল্পী নিয়ে এত বড় আয়োজন করাও তো চাট্টিখানি কথা নয়। একটাই শুধু ভয় ছিল করোনা নিয়ে। তবে সেদিকেও নজর নিয়েছেন আয়োজকরা। সবার কভিড টেস্ট করিয়ে তারপর প্রবেশ করিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রত্যেকে খুব আন্তরিক ছিল দেখলাম।’

করোনাকালে রুনা লায়লার সময় কেটেছে? শোনা যাক তার মুখেই, ‘নিতান্ত কোনো প্রয়োজন ছাড়া আমি বাড়ি থেকে বের হচ্ছি না। সাহসও পাচ্ছি না। এ অনুষ্ঠানের জন্য রেকর্ডিং করতে হয়েছে। মহড়ায়ও গেলাম। বাড়িতে অতিথি নিরুৎসাহিত করছি। ঘরে গান শুনি, ছবি দেখি, বই পড়ি। এভাবেই সময় কেটে যায়। ভবিষ্যতের কিছু পরিকল্পনাও করছি।’ করোনার দ্বিতীয় ডোজ কবে গ্রহণ করছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মাসে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক মাস পিছিয়েছে। ১৫ এপ্রিল দেওয়ার তারিখ ঠিক করা হয়েছে। প্রথম ডোজে আমাদের কারোরই কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। আমাদের বাড়ির ৯ জন টিকা নিয়েছে। কারও হাতে ব্যথাও হয়নি।’

তবে রুনা লায়লা মেনে নিয়েছেন শিগগিরই করোনা থেকে মুক্তি নেই। এর মধ্যেই কাজ করে যেতে হবে। এজন্য নতুন কিছু পরিকল্পনাও সাজিয়েছেন। বললেন, ‘অনেকে জানেন, এর আগে আমার সুরে ভারতের বিখ্যাত পাঁচ শিল্পী গান করেছেন। নতুন আরেকটা পরিকল্পনা অনেক দিন আগেই করে রেখেছি। আমার কম্পোজিশনে ভারতের শিল্পীদের নিয়ে আরও পাঁচটা গান করব। ভারতের প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে কথাও বলেছি, তারাও খুব খুশি হয়েছেন। তবে শিল্পীদের নাম এ মুহূর্তে বলতে চাই না। সবকিছু ফাইনাল হোক, তারপর সবাইকে ঘটা করে জানাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগের কাজগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, যারা আমার কম্পোজিশনে গেয়েছেন, আদনান সামি, রাহাত ফতেহ আলী খান, হরিহরণÑ তারা কেউই আগে বাংলা গান করেননি। আমার একটা চিন্তা ছিল, যারা কখনো বাংলা গান করেননি, তাদের দিয়ে করানোর। এবারও তেমনই চিন্তা করেছি। আমি একজন বাংলাদেশি শিল্পী, বিদেশি শিল্পীরা আমার ভাষায় গাইছে, দেখতেই ভালো লাগে।’

রুনা লায়লার সুরে শুধু দেশের বাইরের শিল্পীরাই গাইছেন তা নয়। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের দিয়েও তিনি পাঁচটি গান করিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি গান প্রকাশিত হয়েছে। আঁখি আলমগীর ও তানি লায়লার গাওয়া গান দুটি এখনো প্রকাশিত হয়নি। করোনার কারণে পিছিয়ে গেছে। এই গানগুলো প্রকাশের পর তিনি নতুন কাজের কথা ভাববেন। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন নতুন শিল্পীকে নিয়ে কাজ করতে চাই। শুধু দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা। সেটা পেলেই কাজ শুরু করব। আমি চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা একটু অন্য ধরনের গানও করুক, ক্ল্যাসিক্যাল ধাঁচের।’

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সংগীতকে তিনি মূল্যায়ন করলেন এভাবে, ‘এখনকার বেশির ভাগ গান শুনে মনে হয়, আমরা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছি। আগে মিউজিশিয়ানরা বাজাত আর আমরা এক টেক-এ পুরো গান গেয়ে ফেলতাম। এখন দেখি মেশিনই বেশির ভাগ কাজ করছে। এর ফলে গানের আবেগটা কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া আমরা একটু অলস হয়ে যাচ্ছি। এখন এমনও হয়, একটা লাইন একবার গেয়ে দিলাম, ১০ বার কপি পেস্ট করে জোড়া লাগিয়ে গান বানিয়ে ফেলা হলো। শিল্পীদের কণ্ঠের আবেগ হারিয়ে যায় তাতে। আগে শিল্পীদের গাওয়া গানে অনুভূতি অন্যভাবে আসত, অন্যরকম লাগত। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাচ্ছি, এখন যারা গান করছে তাদের অবশ্যই নিজের কণ্ঠের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সবাইকে সুরে গাইতে হবে, শিখে গাইতে হবে, তাহলেই ভালো গান হবে। এটাও ঠিক, আমাদের অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। তাদের সুযোগ করে দিতে হবে।’

অনুগ্রহ করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যানেল বাংলা লাইভ টেলিভিশন






” />

© All rights reserved © 2020  reportingbd.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com